অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকারের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষমতা বেশি। আর মানুষের ব্যক্তি সত্তা জাগ্রত হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। শুধু ব্যক্তি নয়; জনস্বার্থে ব্যবসা করা উচিত এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পরের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) জাতীয় সমাজ সেবা দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ওয়াকাথন ও সমাজ সেবা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমাজ সেবা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব আর মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া, পাছে যেন কেউ ভুলে না যায় এই দায়িত্ব থেকে, দূরে সরে না যায়। এজন্য এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে যেন দেশের সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া এ দায়িত্বের কথা। আশা করি, এই আহ্বান সবার কাছে পৌঁছে যাবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই পরের স্বার্থে কাজ করার প্রবণতা আছে। সেই ইচ্ছাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। নিজের জন্য কিছু করার তুলনায় পরের কল্যাণে কাজ করায় আনন্দ মেলে বেশি। তাই দৈনন্দিন জীবনে জনস্বার্থে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, কারও যেন মনে না হয় সমাজসেবা শুধু এ মন্ত্রণালয়ের কাজ। সমাজসেবা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব আর মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া।
এ সময় সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পরের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।
সরকারের শক্তির থেকেও মানুষের শক্তি বেশি। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল না হয়ে ব্যক্তিপর্যায়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
এদিকে ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৬ ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা জিটুপি পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবছরে এ কর্মসূচি খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১০ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের দারিদ্র্য, প্রবীণ ব্যক্তি, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, কিশোর-কিশোরী, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ অসহায় মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসমূহ সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে মোট ৫৪টি জনহিতকর কর্মসূচি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে আহত ছাত্র-জনতাসহ প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা পাচ্ছে।