জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরসহ ৫ দফা দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে জবি শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে সড়কের অবস্থান ছেড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে সোয়া ৫টার দিকে সচিবালের সামনের সড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান তারা।
শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যের এবং শিক্ষকদের ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (শিক্ষা) ও তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্বাস পেয়ে সড়ক ছাড়েন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় সচিবালয়ের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি খুব দ্রুত সময়ে যাতে সমাধান করা যায়, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সমস্যা আছে, সেই সমস্যা আগামীকালের বৈঠকে দূর হবে। এবং শিক্ষার্থীদের যে পাঁচ দফা সেই পাঁচ দফার সফল বাস্তবায়ন আগামীকাল থেকে শুরু হবে। সেই ধরনের একটি আশ্বাস আমরা মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছি- বলেন জবি’র এই অধ্যাপক।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসনের সমস্যা ও এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান করতে চাই। আগামীকাল এই বিষয়ে বৈঠক হবে। সেখান থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিয়ে যাবো। যাতে আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়টি দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কে এম রাকিব বলেন, আমাদের দাবি মেনে নিতে আমরা তিন কর্মদিবসের কথা তাদের বলেছিলাম। তারা তিন দিনের পরিবর্তে আগামীকালই আমাদের ভিসি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে বসবেন। আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের চলমান কাজ কিভাবে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা যায় সেটি তারা কালকেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি আরও বলেন, যদি কালকে আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরির কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।
বৈঠকে শিক্ষা সচিব দুর্ব্যবহার করার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে, এদিন সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনের মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দাবির স্মারকলিপি নিয়ে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে দেখা করতে সচিবালয়ে ঢোকে। তবে, শিক্ষা সচিব দেখা না করায় সচিবালয় ঘেরাও করে হাজারো শিক্ষার্থী।
পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন।
জবি শিক্ষার্থীদের ৫ দাবি হলো- স্বৈরাচার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ডিরেক্টরকে আইনের আওতায় আনা ও সাত দিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর দক্ষ কর্মকর্তার হাতে এ দায়িত্ব অর্পন; শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখাসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা; অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ ও পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার সরকারের আমলের সকল চুক্তি বাতিল; সম্প্রতি ইউজিসির ঘোষণাকৃত পাইলট প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট সর্বনিম্ন ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান।